বাংলাদেশ ও গ্রামীন বৈচিত্র।
বাংলাদেশ ও গ্রামীন বৈচিত্র।
গ্রামীনতার অন্তরে মিশতে পারলে এর মায়াবী রূপ অনুভব করা যায়।
সবুজ ফসলি মাঠ গুলো কত না সুন্দর। এইতো সবুজ আর মেঘলা পরিবেশ। মৃদু বাতাসের সাথে প্রতিটি পাতাগুলোও দুলছে। ক্ষেতগুলোর মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা হাইওয়ে দিয়ে বয়ে চলছে কত প্রনের ব্যস্ততা। শীতের কুয়াসা!! এক বাস্তব মায়াবী চিত্র। মাঠের মধ্যে এক
প্রকান্ড আমগাছ। তার নিচে হয়ত একজন অতি মুগ্ধতা নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেটের
ধোঁয়া উড়াচ্ছে। এইরকম আবাক মুগ্ধতা আর কে পেতে পারে?কে বলে দুঃখ সুখ দিতে পারে
না!!নিষ্কাম শুখ তো একমাত্র ঐ ব্যক্তিই পাচ্ছে।ওইতো পাশের যাত্রীছাউনির নিচে
দাঁড়িয়ে থাকা সাদা শার্ট পরা যুবকটি মানিব্যাগ থেকে প্রিয়তমার ছবিটি দেখে নিচ্ছে
আর মনে মনে হয়ত কঠিনভাবে ভাবছে—নাহ ,এইবার চাকরিটা পেয়ে যাই।চোখে মুখে আবেগের
অস্পষ্ট ছাপ নিয়ে সেও শহরের গন্তব্যে মিশে গেল।দেখ মাঠটির পাশের সরু রাস্তাটি দিয়ে
হেটে যাচ্ছে গ্রামের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রীটি।চিন্তাযুক্ত মুখটি নিয়ে সে স্কুলে যাচ্ছে।সন্তানের কাছে সবচেয়ে কষ্টকর
দৃশ্যের নাম পিতার পরাজিত মুখ।হয়ত এই মুখ তাকে ধবংস করে দিচ্ছ!জীবনের সকল আয়োজন
সকল ছুটেচলা হয়ত তখন তুচ্ছ মনে হয়। কিন্তু সে জিতে গেলেই তো তার বাবা জিতে যায়।
তাকে যে জিততেই হবে।কিছুদূরের বাড়িটির বৃদ্ধ কর্তা অপ্রকাশিত কষ্টে মাঠে বাচ্চাদের
খেলা প্রত্যক্ষ করছে।গতকালই তো তার গৃহলক্ষী মেয়েটির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। যার
বিচরনে সংসারটি প্রান পেত সে আজ অন্য সংসারের নববধূ। বাড়িটির পাশের রাস্তা দিয়ে
সাইকেল ছুটাচ্ছে ডাকপিওন। কে জানে কার ভাগ্যের চাবি নিয়ে সে ছুটে চলেছে!কৃষকদের
আবেগুলো যেন আর কাজ করে না। ভাগ্যের কাছে কখনো তারা জয়লাভ করে আবার কখনো হারে।
তবুও সৃষ্টিকর্তা তাদের শেষ ভরসা। সবশেষে সরলতাই যেন সবাইকে বাঁচিয়ে রেখেছে।সরল
মানুষগুলো ভালো থাকুক......


কোন মন্তব্য নেই