তারুণ্যের কারাগার
বঙ্গদেশের
মধ্যবিত্তের সন্তানদের একখানা পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকে। ইহা হইল পরিনত বয়সে
হয় তাহারা ডাক্তার নতুবা ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যায় পান্ডিত্ব লাভ করিয়া ক্ষ্যাতি লাভ
করিবে এবং ইহার কৃপায় বাকী জীবন অনায়াসে পার করিয়া পিতৃদেবের মুখ উজ্জ্বল করিবে।
অভিবাবকগনের এইরূপ আশা পোষন করা অনধিকার নহে । তবে সরস্বতীর সাধনা যে দাসত্বে
চলিবার জো নেই এই চিন্তা এইকূলের বয়ঃজেষ্ঠদের মনে- চিন্তায় স্থান পাইলেও তাহাদের
মন ইহাকে সম্পূর্ন গলাধকরন করিতে পারে নাই। বড়ই পরিতাপের বিষয়। এইকূলের সন্তানেরা
যাহা পাইবে আত্মবিসর্জন দ্বারাই পাইবে আর যাহা দিবে তাহা আত্মদানের দ্বারাই দিবে। এজন্য
আত্মসন্মান এদের শিকড়ে আর অদৃশ্য পরাধীনতা এদের হতাশায় স্থান পাইয়া একরকম বাস্তব
নাট্যচিত্রে পরিনত হইয়াছে। জ্ঞানেতেই বড় হওয়া এবং যৌবনে প্রেম জিয়িয়ে রাখা এদের
অভ্যাস। ইহাদের অশ্রুজল ব্রম্মাস্ত্রের ন্যায় শক্তিবান বলিয়া জ্ঞান করিয়া কৃষ্ণের
পূন্যত্যাগ স্মরন করিবার ক্ষমতা রাখে। এইরূপ পরাক্রমশালী অশ্রুজল দ্বারা আপন সত্তা
হত্যা করা অস্বাভাবিক কিছু নহে। শিবের দারিদ্র ঐশ্বর্য বলিয়া জ্ঞান হইলেও
অলক্ষ্মীর দারিদ্র কদার্য বলিয়া জ্ঞান হয়। এজন্য এদের মনের দারিদ্রকে একপ্রকার
ঐশ্বর্য বলিয়াই গন্য করি। যেখানে সৃষ্টির স্বাধীনতা থাকিবে সেইখানেই পরমেশ্বর
অধিষ্ঠিত থাকিবে। সুপ্ত ফুলকে স্বাধীনভাবে বাড়তে দেও,দেখিবে একসময় তাহার সৌন্দর্যে
সবাই মুগ্ধ হইবে।অকাজের ভিতরেও কাজকে খুঁজে নিতে দাও,দেখিবে সেই কাজই একসময় সমাদৃত
হইবে। কর্ম আর চেতনা দ্বারাই সৃষ্টিকর্তা মানব সৃষ্টি করিয়াছে।পরিপুষ্ট প্রদীপ
কখনোই নিভে যাওয়া স্মরন করিবে না। তোমরা অদ্য ইহাকে পরিপুষ্ট করার ভরসা প্রাদান
কর, দেখিবে তাহার আলোয় সকলে আলোকিত হইবে।নিষ্কাম স্বপ্নযাত্রায় বাধা প্রদান করিয়া
স্বেচ্ছাচারী হওয়া যায় বটে তবে এই স্বেচ্ছাচারীতার অনুতপ্তের আগুনে চেতনা পুড়ে
একদিন ঠিকই পবিত্র ভস্মে পরিনত হইবে। অত্র দিবসে নতুন চেতনার অভ্যুদয় হইলে তাহার
জবাবদিহিতা করিতে পারিবেন তো? অন্তরাত্মার স্বাধীনতা বেঁচে থাকুক,আপন সত্তা
দীর্ঘজীবী হোক।,


কোন মন্তব্য নেই