গ্যালিলিও গ্যালিলাই ও তাঁর কট্টর সমাজব্যাবস্থা।
গ্যালিলিও গ্যালিলাই
[১৫৬৪-১৬৪২ খ্রিস্টাব্দ]
আমরা ষােড়শ শতকের যেসব জ্ঞানী-গুণীদের নাম জানি তাদের মধ্যে গ্যালিলিও
গ্যালিলাই অন্যতম।গ্যালিলিও গ্যালিলাই, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাণপুরুষ।
গ্যালিলিওর জন্ম ইতালির পিসা শহরে। বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী। কিন্তু সঙ্গীত ও
অঙ্কশাস্ত্রের প্রতি তার ছিল গভীর ভালবাসা। গ্যালিলিওর মা ছিলেন উগ্র স্বভাবের মহিলা।
সামান্য ব্যাপারেই অন্যের প্রতি রাগ আরবিদ্রুপে ফেটে পড়তেন। উত্তরাধিকার সুত্রে
গ্যালিলিও এই সব গুণই পেয়েছিলেন পিতামাতার কাছ থেকে। পিতার অনিচ্ছা সত্ত্বেও
অঙ্কশাস্ত্রের প্রতি অনুরাগ এবং তার সহনশীলতার অভাবের জন্য চারপাশে গড়ে তুলে
ছিলেন অসংখ্য দুশমন যা তার অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টের জন্য আংশিক দায়ী।
গ্যালিলাই অন্যতম।গ্যালিলিও গ্যালিলাই, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাণপুরুষ।
গ্যালিলিওর জন্ম ইতালির পিসা শহরে। বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী। কিন্তু সঙ্গীত ও
অঙ্কশাস্ত্রের প্রতি তার ছিল গভীর ভালবাসা। গ্যালিলিওর মা ছিলেন উগ্র স্বভাবের মহিলা।
সামান্য ব্যাপারেই অন্যের প্রতি রাগ আরবিদ্রুপে ফেটে পড়তেন। উত্তরাধিকার সুত্রে
গ্যালিলিও এই সব গুণই পেয়েছিলেন পিতামাতার কাছ থেকে। পিতার অনিচ্ছা সত্ত্বেও
অঙ্কশাস্ত্রের প্রতি অনুরাগ এবং তার সহনশীলতার অভাবের জন্য চারপাশে গড়ে তুলে
ছিলেন অসংখ্য দুশমন যা তার অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টের জন্য আংশিক দায়ী।
শৈশব থেকেই গ্যালিলিওর মধ্যে প্রতিভার উন্মেষ ঘটেছিল। বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি তাঁর
ছিল কৌতুহল । Valiombrosa-র ধর্মীয় স্কুলে পড়ার সময় সেখানকার ধর্মীয় শিক্ষকদের
প্রভাবে তিনি মনে মনে স্থির করলেন শিক্ষা শেষে তিনি যাজকের পেশা গ্রহণ করবেন।
গ্যালিলিওর বাবা তার পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ দেখে শেষ পর্যন্ত স্থির করলেন, যে পথে
নিশ্চিত অর্থ উপার্জনের সুযােগ আছে, তাতেই ছেলেকে ভর্তি করাবেন। গ্যালিলিওর
ইচ্ছা ছিল অঙ্কশাস্ত্র নিয়ে পড়াশুনা করা। পিতার আদেশে ডাক্তারি পড়ার জন্য তিনি
ভর্তি হলেন পিসার বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শিক্ষকদের প্রতিটি কথাকেই
তিনি চিরন্তন সত্য বলে মেনে নিতে পারলেন না। প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষকদের নানান
বিষয়ে প্রশ্ন করে বিব্রত করে তুলতেন। কিন্তু তাতেও তার মনপূতঃ হতাে না। বিভিন্ন
প্রশ্নের সমাধানের জন্য নিজের ছােট্ট ঘরেই গড়ে তুললেন একটা পরীক্ষাগার। অতীতের
প্রতিটি ধ্যান-ধারণাকে বিচার করতেন, বিশ্লেষণ করে দেখতেন তার মধ্যে কতটা সত্য
কতটুকু মিথ্যা। | সেসময় গ্যালিলিও পরিচিত হলেন তার পিতার বন্ধু রিচির সাথে।
রিচি ছিলেন ইতালির রাজপরিবারের অঙ্কের শিক্ষক। গ্যালিলিও তখন পিসা
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয়। বর্ষের ছাত্র, বয়স মাত্র ১৯। একদিন গ্যালিলিও রিচির বাড়িতে
গিয়েছেন, রিচি তখন তার ঘরের মধ্যে ছাত্রদের ইউক্লিডের জ্যামিতি পড়াচ্ছিলেন।
ছিল কৌতুহল । Valiombrosa-র ধর্মীয় স্কুলে পড়ার সময় সেখানকার ধর্মীয় শিক্ষকদের
প্রভাবে তিনি মনে মনে স্থির করলেন শিক্ষা শেষে তিনি যাজকের পেশা গ্রহণ করবেন।
গ্যালিলিওর বাবা তার পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ দেখে শেষ পর্যন্ত স্থির করলেন, যে পথে
নিশ্চিত অর্থ উপার্জনের সুযােগ আছে, তাতেই ছেলেকে ভর্তি করাবেন। গ্যালিলিওর
ইচ্ছা ছিল অঙ্কশাস্ত্র নিয়ে পড়াশুনা করা। পিতার আদেশে ডাক্তারি পড়ার জন্য তিনি
ভর্তি হলেন পিসার বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শিক্ষকদের প্রতিটি কথাকেই
তিনি চিরন্তন সত্য বলে মেনে নিতে পারলেন না। প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষকদের নানান
বিষয়ে প্রশ্ন করে বিব্রত করে তুলতেন। কিন্তু তাতেও তার মনপূতঃ হতাে না। বিভিন্ন
প্রশ্নের সমাধানের জন্য নিজের ছােট্ট ঘরেই গড়ে তুললেন একটা পরীক্ষাগার। অতীতের
প্রতিটি ধ্যান-ধারণাকে বিচার করতেন, বিশ্লেষণ করে দেখতেন তার মধ্যে কতটা সত্য
কতটুকু মিথ্যা। | সেসময় গ্যালিলিও পরিচিত হলেন তার পিতার বন্ধু রিচির সাথে।
রিচি ছিলেন ইতালির রাজপরিবারের অঙ্কের শিক্ষক। গ্যালিলিও তখন পিসা
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয়। বর্ষের ছাত্র, বয়স মাত্র ১৯। একদিন গ্যালিলিও রিচির বাড়িতে
গিয়েছেন, রিচি তখন তার ঘরের মধ্যে ছাত্রদের ইউক্লিডের জ্যামিতি পড়াচ্ছিলেন।
গ্যালিলিও ঘরের বাইরে দাড়িয়ে নিঃশব্দে শুনতে লাগলেন। তার বক্তব্য শুনতে শুনতে
তন্ময় হয়ে গেলেন গ্যালিলিও। নতুন করে আবার তার মনের মধ্যে জেগে উঠল।
অঙ্কের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ।
ফল শ্রুতিতে ডাক্তারি বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে রেখে পড়তে আরম্ভ করলেন ইউক্লিড। আকিমিডিস । তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন রিচি। ডাক্তারিতে তখন আর মন নেই। গ্যালিলিওর, দিন-রাত চলতে লাগল অঙ্কের চর্চা। এই সময় তার জীবনের ঘটল একটি বিখ্যাত ঘটনা। একদিন তিনি আরাে অনেকের সাথে পিসার ক্যাথিড্রালে বসে প্রার্থনা করছিলেন। সেই ক্যাথিড্রালের মাঝখানে ছিল একটা বড় ঝাড়লণ্ঠন। একজন কর্মচারী তখন প্রদীপ জ্বালাবার সময় অন্যমনস্কভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রতিবার ঝাড়লণ্ঠন বার বার দোলার সাথে সাথে তার ঘর্ষণের আওয়াজ হতে পারে। গ্যালিলও লক্ষ্য করলেন ক্রমশ লণ্ঠনের দুলুনি কমে আসছে। কিন্তু প্রতিটি দুলুনির সাথে সাথে যে ঘর্ষণের আওয়াজ হচ্ছে তার গতি এক রয়ে গিয়েছে।তন্ময় হয়ে গেলেন গ্যালিলিও। নতুন করে আবার তার মনের মধ্যে জেগে উঠল।
অঙ্কের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ।
ডাক্তাররা যেভাবে নাড়ী দেখে সেইভাবে একদৃষ্টে দেখতে লাগলেন ঝাড়লণ্ঠনের দোলন। ক্রমশই তিনি উপলব্ধি করলেন ঝাড়লণ্ঠের দোলনির মাঝে একটি নিদিষ্ট ছন্দ। আছে। এর থেকে তিনি আবিষ্কার করলেন পেন্ডুলাম ( Pendulum) । গ্যালিলিওর মৃত্যুর পর তার ছেলে। এই নক্সা দেখে তৈরি করেছিলেন পেন্ডুলাম ঘড়ি। ডাক্তারী পড়াশােনার প্রতি অনীহার করানে বাধ্য হয়েই তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হল, আর তার ডাক্তারি ডিগ্রী নেওয়া হল। না। তিনি ফিরে এলেন ফ্লোরেন্স । এবার আর ডাক্তারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার চিন্তা নেই। শুরু হল পদার্থবিদ্যা আর অঙ্কশাস্ত্রের গভীর অনুশীলন। যেমন নিষ্ঠা তেমনি একাগ্রতা। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি দুটি বিষয়েই পারদর্শী হয়ে উঠলেন। বাড়ির আর্থিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। বাধ্য হয়ে চেষ্টা করতে লাগলেন যদি কোথাও অধ্যাপনার চাকরি পাওয়া যায়। এই সময়ে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্কের শিক্ষকের একটি পদ খালি ছিল । মাইনে মাত্র কুড়ি শিলিং তবুও সানন্দে সেই পদ গ্রহণ করলেন গ্যালিলিও। তখন তিনি ২৫ বছরের এক তরুণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পা রাখতেই গ্যালিলিও দেখলেন যে দিকেই তাকান শুধ অ্যারিস্টটল আর অ্যারিস্টটল। তিনি যা কিছু বলে গেছেন তাই সত্য, তাকে নিয়ে ভাবনার প্রয়ােজন নেই। কিন্তু গ্যালিলিও তার অনেক কিছুই মানতে পারলেন না।
। অনেকে তাকে বিদ্রুপ করতে আরম্ভ করলেন, অনেকে তার স্পর্ধা দেখে ক্রদ্ধ হয়ে উঠল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বললেন, দুটি জিনিসকে উপর থেকে একই সঙ্গে ফেললে ভারী জিনিসটি আগে পড়বে, হালকা জিনিসটি পরে মাটি স্পর্শ করবে অ্যারিস্টটলের এই তথ্য ভুল। প্রকৃত পক্ষে দুটি জিনিস একই সঙ্গে পড়বে।
গ্যালিলিও বললেন, আমি সকলের সামনে প্রমাণ করব আমার বক্তব্য সত্যতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র, শহরের সমস্ত জ্ঞানী গুণী মানুষদের সাথে নিয়ে। গ্যালিলিও এলেন পিসার বিখ্যাত হেলানাে টাওয়ারের সামনে। কয়েকজনকে নিয়ে তিনি। উঠে গেলেন টাওয়ারের মাথায়। এক হাতে দশ পাউন্ডের বল অন্য হাতে এক পাউন্ডের বল। দুটিকে একই সাথে উপর থেকে ফেলে দিলেন। সকলে বিস্মিত হয়ে দেখল দুটি বল একই সাথে মাটি স্পর্শ করল।
গ্যালিলিও সিদ্ধান্ত সঠিক বলে প্রমাণিত হল। তবুও অনেকে মানতে পারলেন না।। তারা প্রচার করতে লাগলেন এর মধ্যে নিশ্চয়ই কোন কারসাজি ছিল।
পিসার ডিউকের পুত্র রাজকুমার ডন জিওভান্নি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি একটা যন্ত্র তৈরি করেছিলেন স্থানীয় বন্দরের পলি পরিস্কার করবার জন্য। ডিউক যন্ত্রটি পরীক্ষার জন্য গ্যালিলিওর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। সব দেখে শুনে গ্যালিলিও বললেন যন্ত্রটি কাজে অনুপযুক্ত। | জিওভান্নি তাতে রেগে উঠলেন। অন্য সকলের সাথে তিনিও চাইলেন গ্যালিলিওর বিতাড়ন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হলেন গ্যালিলিও।
গ্যালিলিওর কয়েকজন ঘণিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাদের সাহায্যে ১৫৯২ সালে তিনি পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক পদ পেলেন। বেতনও পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি। সবচেয় আশার কথা এখানে তিনি পেলেন বিদ্যাচর্চার আদর্শ পরিবেশ। এখানে এসেই গ্যালিলিও শুরু করলেন তার নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা কাজ। রচনা করলেন। একাধিক প্রবন্ধ। তার সুনাম ছড়িয়ে পড়তে আরম্ভ করল সমস্ত ইউরােপে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বেতন আরাে বাড়িয়ে দিলেন। ছাত্রদের ভিড় সামলাবার জন্য তিনি বিরাট একটি বাড়ি ভাড়া নিলেন।
মাঝে মাঝে সব ছেড়ে দিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিতেন শহরের উপকণ্ঠে সমাজ পরিত্যক্ত এক রমণীর কাছে। তার নাম মারিনা গাম্বা। কিছুদিন পর তাকে নিজের গৃহে নিয়ে আসেন। যদিও কখনাে মারিনাকে তিনি বিবাহ করেনি তবুও পরবর্তীকালে তার গর্ভে গ্যালিলিওর তিনটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল।
সেসময় বিভিন্নরকম যন্ত্রপাতি তৈরি করেছিলেন গ্যালিলিও । প্রথমে কম্পাস, এম মধ্যে দিয়ে বােঝালেন পৃথিবীর চুম্বকত্ব শক্তি কথা। তারপর পানি উত্তোলনের জন্য উন্নত ধরনের লিভার। বাতাসের উত্তাপ পরিমাপ করার জন্য থার্মোমিটার।
এই সমস্ত যন্ত্রপাতির ক্রমশই এত চাহিদা বাড়তে থাকে, তিনি বাড়িতে লোক
রাখলেন তাকে সাহায্য করার জন্য। এইসব আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তার মাইনে আরাে বাড়িয়ে দিল কিন্তু তবুও তার অভাব দূর হল না।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিষয়ে মনােনিবেশ শুরু করেন ১৬০৪ সালে থেকে। এই সময় আকাশে একটি নতুন তারা দেখা গেল। বিভিন্ন লােকের মধ্যে আলােচনা শুরু হল, কেউ। বললেন, উল্কা, কেউ বললেন, নতুন কোন তারা।গ্যালিলিও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করে সর্বসক্ষমে তার মত প্রকাশ করলেন। তিনি বললেন, এটি কোন গ্রহ নয়, উল্কাও নয়, সৌরমণ্ডলে অবস্থিত নিতান্তই একটি তারা। তার এই বক্তব্য শুনতে দলে দলে লােক এসে হাজির হয়েছিল। তারপর তিনি বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ রচনা করলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর। তার সাথে লিখতে লাগলেন, গতিতত্ত্ব, বিশ্ব প্রকৃতি, শব্দ, আলাের রং প্রভৃতি নানান বিষয়ের উপর রচনা । | ১৬০৯ সালে চারধারে একটি গুজব শােনা গেল যে একজন ডাচ চশমার দোকানের কর্মচারী কাজ করতে করতে এমন একটা জিনিস তৈরি করেছে যা দিয়ে নাকি অনেক দূরের জিনিস দেখা যায়। গ্যালিলিও কথাটি শুনলেন। | শুরু হল গ্যালিলিওর চিন্তা-ভাবনা। তিনি নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর একটা ফাঁকা নলের মধ্যে একটি উত্তল ও একটি অবতল লেন্সকে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসাতেই দেখতে পেলেন বহু দূরের বাড়িটি মনে হচ্ছে কয়েক ফুটের মধ্যে এসে গিয়েছে। এভাবেই আবিষ্কৃত হল টেলিস্কোপ। | অবশেষে ১৬০৯ সালের ২১ আগষ্ট তিনি সর্বসমক্ষে প্রদর্শনের জন্য টেলিস্কোপ নিয়ে | গেলেন ভেনিসের এক উঁচু বাড়ির ছাদে। উপস্থিত দর্শকেরা বিস্ময়ে দেখতে লাগল দুই মাইল দূরের সমুদ্র, তাতে ভেসে চলা জাহাজ। আরাে দূরের পাহাড়। রাতের আকাশের বড় বড় তারা। ফলে চারদিকে আলােড়ন পড়ে গেল। পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর কৃতিত্বকে সম্বর্ধনা জানিয়ে তাকে আজীবন অধ্যাপকের পদ দিলেন। | এর ফলে চারদিক থেকে টেলিস্কোপ তৈরির অর্ডার আসতে লাগল। তিনি বাড়িতে কারখানা করে প্রায় ১০০ টির মতাে টেলিস্কোপ তৈরি করলেন। নিজের জন্য তৈরি করলেন অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী একটি টেলিস্কোপ। | আকারে আয়তনে এই টেলিস্কোপ অন্য সব টেলিস্কোপের চেয়ে বড়। বিরাট সেই টেলিস্কোপ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে গ্যালিলিও পর্যবেক্ষণ করতে আরম্ভ করলেন সমস্ত আকাশ। তিনি বললেন চাদ একটি উপগ্রহ। তার মধ্যে রয়েছে, ছােট-বড় অসংখ্যা পাহাড় আর গিরিখাদ।। | তিনি আবিষ্কার করলেন শনির বলয়। জুপিটারের উপগ্রহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহপুঞ্জ। এই | পর্যবেক্ষণ আর আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে তিনি রচনা করলেন প্রথম বই |SIDEREUS NUNCIUS (The messenger)।
![]() |
| নিজের আবিষ্কৃত দূরবীক্ষণ যন্ত্রের প্রদর্শন |
এত আবিষ্কার খ্যাতি অর্থ সম্মান পেয়েও কিছুতেই | সন্তুষ্ট হলেন না গ্যালিলিও। পিসার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাবার জন্য ডিউকের কাছে আবেদন করলেন। কিন্তু ডিউক তার আবেদনে কর্ণপাত করলেন না। অবশেষে ডিউক মারা যাবার পর তার পুত্র দ্বিতীয় কসিমাে নতুন ডিউক হলেন। তিনি ছিলেন গ্যালিলিওর। প্রাক্তন ছাত্র।তিনি গুরুকে আমন্ত্রণ জানালেন। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে পিসার বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্কের প্রধান অধ্যাপকের পদ গ্রহণ করলেন, সেই সঙ্গে ডিভকের দর্শন ও অঙ্কের শিক্ষকের পদ পেলেন। তিনি ক্লাস করবার বা পিসায় থাকবার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি লেন। কিন্তু সাথে সাথে তার জীবনে নেমে এল এক মহা বিপর্যয়। এর মূল কারণ ছিল কোপার্নিকাসের মতবাদ।
গ্যালিলিওর বহু আগেই ১৫৪৩ সালে পােল্যান্ডের মহান জ্যোতির্বিদ কোপার্নিকাস একখানি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, তাতে লিখেছিলেন সূর্য স্থির এবং তাকে কেন্দ্র করে এই পৃথিবী ও অন্য গ্রহ আবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু ধর্মযাজক সম্প্রদায়ের ভয়ে এই বই তিনিজীবিতকালে প্রকাশ করতে পারেন নি।
১৬১১ সালে তিনি আবিষ্কার করলেন সূর্যের উপরে কিছু চিহ্ন। তিনি তার কয়েক বন্ধু ও অনুরাগীর কাছে তার আবিষ্কারের কথা প্রথম প্রকাশ করলেন, কোপার্নিকাসে মতের সমর্থনের প্রকাশ করলেন তার যুক্তি ও অভিমত। ক্রমশই তার সেই ধ্যান-ধারণা ছড়িয়ে পড়তে লাগল চারদিকে।
![]() |
| Nicolaus Copernicus |
এতে গ্যালিলিওর বন্ধুরা অনুভব করতে পারছিলেন গ্যালিলিওর বিপদের দিন ঘনিয়ে আসছে। তারা বারংবার তাকে সাবধান করতে দিতে থাকেন। কিন্তু গ্যালিলিও কারাে কথাই আমলে নিলেন না। গ্যালিলিওর বিরুদ্ধে অভিযােগ উঠতেই ইনইকুইজিশানের পক্ষ থেকে গ্যালিলিওকে ডেকে পাঠানাে হল।
২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬১৬ সালে গ্যালিলিও বিচারকদের সামনে উপস্থিত হলেন। তাঁকে আদেশ দেওয়া হল তিনি সূর্য ও পৃথিবীর সম্বন্ধে যে সব কথা প্রচার করেছেন তা ধর্মবিরুদ্ধ। সুতরাং তিনি এই সম্বন্ধে আর কোনা বই লিখতে পারবেন না। কোন মত প্রকাশ করতে পারবেন না। এই আদেশ অমান্য করলে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
তিনি জানতেন কি ভয়ংকর শাস্তির বােঝা নেমে আসবে তার উপর। গ্যালিলিও তাই অঙ্গীকার পত্রে স্বাক্ষর করে সমস্ত আদেশ মেনে নিলেন।
অপমানে লাঞ্ছিত ব্যর্থমনে হয়ে তিনি ফ্লোয়েন্সে নিজের পরিবারে ফিরে এলেন । কিন্তু তাঁর কাজ থেমে থাকল না। তিনি গােপনে পুনরায় শুরু করলেন তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা। দু-একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু ছাড়া কেউ তার কোনাে সংবাদই জানতে পারল না।
এই ঘটনার দীর্ পনেরাে বছর পর তিনি রচনা করলেন তার বিখ্যাত গ্রন্থ- ‘বিশ্বের প্রধান দুটি নিয়ম সম্ন্ধে কথােপকথন। | গ্যালিলিও রােমে গিয়ে পােপের কাছে তা প্রকাশ করবার অনুমত চাইলেন।
বইটিতে তিনটি চরিত্র। একজন কোপারনিকাসের মতকে সমর্থন করেছেন, আর একজন টলেমির সপক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। আর তৃতীয়জন নিরপেক্ষ। প্রথম চরিত্রটি। ছিল গ্যলিলিওর প্রতিচ্ছায়া। দ্বিতীয় ব্যক্তি সিমপ্লিসিও কিছুটা মজার আর বােকা ধরণের লােক।
১৬৩২ সালে বইটি প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে তারা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করল । কিছুদিনের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ল ইউরােপের বিভিন্ন দেশে। পণ্ডিতদের মধ্যে আলােড়ন সৃষ্টি হল। অপরদিকে ধর্মীয় সম্প্রদায় আরাে ক্রদ্ধ হয়ে উঠল । তাদের মনে হল ১৬১৬ সালের নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে এই বই রচনা করেছেন গ্যালিলিও। তাছাড়া অনেকে প্রচার করতে আরম্ভ করল, পােপকে বিদ্রুপ করেই গ্যালিলিও মজার চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন। এর ফলে সাথে সাথে বইয়ের প্রচার বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হল। বইটির সম্বন্ধে অভিমত দেওয়ার জন্য একটি কমিটি তৈরি হল।
বইটিতে তিনটি চরিত্র। একজন কোপারনিকাসের মতকে সমর্থন করেছেন, আর একজন টলেমির সপক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। আর তৃতীয়জন নিরপেক্ষ। প্রথম চরিত্রটি। ছিল গ্যলিলিওর প্রতিচ্ছায়া। দ্বিতীয় ব্যক্তি সিমপ্লিসিও কিছুটা মজার আর বােকা ধরণের লােক।
১৬৩২ সালে বইটি প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে তারা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করল । কিছুদিনের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ল ইউরােপের বিভিন্ন দেশে। পণ্ডিতদের মধ্যে আলােড়ন সৃষ্টি হল। অপরদিকে ধর্মীয় সম্প্রদায় আরাে ক্রদ্ধ হয়ে উঠল । তাদের মনে হল ১৬১৬ সালের নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে এই বই রচনা করেছেন গ্যালিলিও। তাছাড়া অনেকে প্রচার করতে আরম্ভ করল, পােপকে বিদ্রুপ করেই গ্যালিলিও মজার চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন। এর ফলে সাথে সাথে বইয়ের প্রচার বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হল। বইটির সম্বন্ধে অভিমত দেওয়ার জন্য একটি কমিটি তৈরি হল।
কমিটি সবকিছু বিচার করে রায় দিল গ্যালিলিও পূর্বের নিষেধাজ্ঞা অবজ্ঞা করে বই রচনা করেছেন। রােমে বিচারসভায় উপস্থিত হবার জন্য গ্যালিলিওকে আদেশ দেওয়া হয়।
গ্যালিলিও তখন ৭০ বছরের বৃদ্ধ। বাধ্য হয়ে এই বয়সে ১৬৩২ সালের ডিসেম্বর। সে তিনি রােমে এসে হাজির হলেন। * দীর্ঘ চার মাস কারা অভ্যন্তরে থাকার পর ১৬৩৩ সালের ১২ এপ্রিল তিনি প্রথম বিচারের কাঠগড়ায় উপস্থিত হলেন। ৩০ এপ্রিল তিনি দ্বিতীয়বার কোর্টের সামনে এসে হাজির হলেন। কথােপকথন বইটি সম্বন্ধে তাকে জেরা করা হল। তিনি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেন। যার কারনে তিনি বইয়ের কিছু অংশ পরিবর্তন করতে চাইলেন। বিচারকরা তাকে অনুমতি দিলেন। কিন্তু পরিবর্তন করার পরও বিচারকরা সন্তুষ্ট হতে পারলেন না।
জুন মাসের ১৬ তারিখে পােপের সভাপতিত্বে সভা বসল, এতে ঠিক হল যদি গ্যালিলিও যদি তার অপরাধ স্বীকার না করেন তবে তার উপর অত্যাচার করা হবে। এই উদ্দেশ্যে ২১ তারিখে তাকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল ।
শুরু হল তার উপর অত্যাচার। বৃদ্ধ বয়সে এই অত্যাচার-নির্যাতনে গ্যলিলিও তার শারীরিক মানসিক সব শক্তি হারিয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত সব অভিযােগ স্বীকার করে স্বীকারােক্তি দিলেন।
২২ তারিখে তার বিরুদ্ধে ১৮১৬ সালের নির্দেশ লঙ্ঘন করার জন্য এবং ধর্মবিরুদ্ধ মত প্রকাশ করার জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়। বিচারে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দিত্বের আদেশ দেওয়া হল। নির্দেশ দেওয়া হল ভবিষ্যতে তিনি আর কোনাে বই রচনা করতে পারবেন না। | ডিসেম্বর মাসে তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। অবশেষে তার গ্রাম Arcetry- তে যাবার অনুমতি দেয়া হল। অসুস্থতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারল না। অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি নতুন উদ্যমে আবার কাজ শুরু করলেন। এবার সম্পূর্ণ গােপনে রচনা করলেন দুটি নতুন বিজ্ঞানের বিষয়ে কথােপকথন। এই বইয়ের মধ্যে তিনি তার আগেকার অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা প্রকাশ করেছেন, সেই সঙ্গে বলবিদ্যার মূল তত্ত্বের আলােচনা করেছেন। পরবর্তী কালে আইজাক নিউটন বলবিদ্যার যে সমস্ত সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন, গ্যালিলিওই প্রথম তার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
কিন্তু এই বই ইতালিতে প্রকাশ করবার সাহস হল না গ্যালিলিওর। গােপনে তিনি বইটির প্রতিলিপি পাঠিয়ে দিলেন হল্যান্ডে। সেখান থেকে ১৬৩৮ সালে প্রকাশিত হল তাঁর এই মহামূল্য বইটি।
ততদিনে গ্যালিলিও বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌছে গেছেন। নিজের লেখা এই মহামূল্যবান বইটি ছাপা অবস্থায় দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার। ক্রমশই তার চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে আসছিল। ধীরে ধীরে পুরােপুরি অন্ধ হয়ে গেলেন গ্যালিলিও। জীবনের শেষ পাঁচ বছর তিনি অন্ধ অবস্থায় কাটান। এই সময় তাঁর ইচ্ছা অনুসারে তাঁকে ফ্লোরেন্সে যেতে দেওয়া হল। কিছু বাধা-নিষেধ শিথিল করা হল। ইউরােপের অনেক দেশ থেকেই শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতরা তার কাছে আসতে আরম্ভ করল। গ্যালিলিও তখন অসুস্থ, বিছানায় শয্যাশায়ী। | জীবনের শেষ পর্যায়ে তার কাছে এলেন আঠারাে বছরের তরুণ ছাত্র ভিভানি। গ্যালিলিওর প্রথম জীবনীকার। তিনি সেবা-যত্নে গ্যালিলিওর শেষ দিনগুলাে ভরিয়ে দিয়েছিলেন। ১৬৪২ সালের জানুয়ারি মাসে ৭৮ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারনে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি দু হাতে আঁকড়ে ধরেছিলন তার শ্রেষ্ঠ রচনা "The law of Motion"। যা তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁকে অমর করে রেখেছে। এই বইয়ের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে অনেক বিজ্ঞানী অনেক গবেষণা করে পদার্থ বিদ্যার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
শুরু হল তার উপর অত্যাচার। বৃদ্ধ বয়সে এই অত্যাচার-নির্যাতনে গ্যলিলিও তার শারীরিক মানসিক সব শক্তি হারিয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত সব অভিযােগ স্বীকার করে স্বীকারােক্তি দিলেন।
২২ তারিখে তার বিরুদ্ধে ১৮১৬ সালের নির্দেশ লঙ্ঘন করার জন্য এবং ধর্মবিরুদ্ধ মত প্রকাশ করার জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়। বিচারে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দিত্বের আদেশ দেওয়া হল। নির্দেশ দেওয়া হল ভবিষ্যতে তিনি আর কোনাে বই রচনা করতে পারবেন না। | ডিসেম্বর মাসে তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। অবশেষে তার গ্রাম Arcetry- তে যাবার অনুমতি দেয়া হল। অসুস্থতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারল না। অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি নতুন উদ্যমে আবার কাজ শুরু করলেন। এবার সম্পূর্ণ গােপনে রচনা করলেন দুটি নতুন বিজ্ঞানের বিষয়ে কথােপকথন। এই বইয়ের মধ্যে তিনি তার আগেকার অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা প্রকাশ করেছেন, সেই সঙ্গে বলবিদ্যার মূল তত্ত্বের আলােচনা করেছেন। পরবর্তী কালে আইজাক নিউটন বলবিদ্যার যে সমস্ত সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন, গ্যালিলিওই প্রথম তার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
কিন্তু এই বই ইতালিতে প্রকাশ করবার সাহস হল না গ্যালিলিওর। গােপনে তিনি বইটির প্রতিলিপি পাঠিয়ে দিলেন হল্যান্ডে। সেখান থেকে ১৬৩৮ সালে প্রকাশিত হল তাঁর এই মহামূল্য বইটি।
ততদিনে গ্যালিলিও বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌছে গেছেন। নিজের লেখা এই মহামূল্যবান বইটি ছাপা অবস্থায় দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার। ক্রমশই তার চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে আসছিল। ধীরে ধীরে পুরােপুরি অন্ধ হয়ে গেলেন গ্যালিলিও। জীবনের শেষ পাঁচ বছর তিনি অন্ধ অবস্থায় কাটান। এই সময় তাঁর ইচ্ছা অনুসারে তাঁকে ফ্লোরেন্সে যেতে দেওয়া হল। কিছু বাধা-নিষেধ শিথিল করা হল। ইউরােপের অনেক দেশ থেকেই শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতরা তার কাছে আসতে আরম্ভ করল। গ্যালিলিও তখন অসুস্থ, বিছানায় শয্যাশায়ী। | জীবনের শেষ পর্যায়ে তার কাছে এলেন আঠারাে বছরের তরুণ ছাত্র ভিভানি। গ্যালিলিওর প্রথম জীবনীকার। তিনি সেবা-যত্নে গ্যালিলিওর শেষ দিনগুলাে ভরিয়ে দিয়েছিলেন। ১৬৪২ সালের জানুয়ারি মাসে ৭৮ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারনে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি দু হাতে আঁকড়ে ধরেছিলন তার শ্রেষ্ঠ রচনা "The law of Motion"। যা তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁকে অমর করে রেখেছে। এই বইয়ের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে অনেক বিজ্ঞানী অনেক গবেষণা করে পদার্থ বিদ্যার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন।





কোন মন্তব্য নেই